
ভাষা শেখার চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্কিলের মধ্যে লিসনিং হলো সবচেয়ে কার্যকরী। অনেক ভাষাবিদ বলেন, একটি ভাষার প্রায় ৭০–৮০% শেখা সম্ভব শুধুমাত্র লিসনিং এর মাধ্যমে। এই কথাটা যে একেবারে ভুল নয়, তা বুঝতে চাইলে আমরা হিন্দির উদাহরণ নিতে পারি। আমাদের মধ্যে যারা আজ হিন্দি মোটামুটি বুঝতে বা বলতে পারি, তাদের বেশিরভাগই কোনো ক্লাস করে নয়, বরং ডোরেমন / রকেন্দু, হিন্দি সিনেমা বা টিভি দেখে শিখেছি। অর্থাৎ শোনার মাধ্যমেই ভাষা রপ্ত হয়েছে। একই নিয়ম ইংরেজির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলি। IELTS পরীক্ষায় আমার ভালো স্কোর পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে লিসনিং মডিউল। ছোটবেলা থেকেই খেলা দেখার অভ্যাস ছিল, আর খেলা দেখতে গিয়ে চেষ্টা করতাম ইংরেজিতে ধারাভাষ্যকাররা কী বলছে তা বুঝতে । ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করি, আর এখান থেকেই আমার ইংরেজি লিসনিং শক্তিশালী হয়। এছাড়া আমি যখন স্টার গোল্ড চ্যানেলে হিন্দি সিনেমা দেখতাম, সেখানে ইংরেজি সাবটাইটেল থাকত। যেহেতু হিন্দি আগে থেকেই বুঝতাম, সাবটাইটেলের মাধ্যমে অনুমান করতে পারতাম কোন হিন্দি শব্দের ইংরেজি কী হতে পারে। এর ফলে শুধু লিসনিং নয়, আমার ভোকাবুলারিও স্ট্রং হয়েছে।
মূল কথাটা হলো, ইংরেজি লিসনিং উন্নত করতে হলে আপনাকে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু টেস্ট দিয়ে গেলে চলবে না। প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা থেকে ২ ঘণ্টা নিয়মিত শুনলে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আসবে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, কি শুনব?
আমি বলব, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আপনার আগ্রহ কোন বিষয়ে? ক্রিকেট ভালো লাগে? তাহলে ইংরেজিতে ক্রিকেট পডকাস্ট, ম্যাচ এনালাইসিস বা কমেন্টারি শুনুন।
মুভি ভালো লাগে? ইংরেজি সিনেমা বা সিরিজ দেখুন সাবটাইটেলসহ। টেকনোলজি, ইতিহাস, ভ্রমণ, যেটা আপনার ইন্টারেস্টের, সেটাই শুনুন। এতে একদিকে আপনার মাইন্ড খুশি থাকবে, অন্যদিকে লিসনিং স্কিলও দ্রুত ইমপ্রুভ হবে।
শেষ কথা
লিসনিং কোনো টিপস বা ট্রিকস দিয়ে রাতারাতি ইমপ্রুভ হয় না। এটা এক ধরনের হ্যাবিট বিল্ডিং প্রসেস । যত বেশি শুনবেন, তত বেশি বুঝতে পারবেন। তাই দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করুন আপনার লিসনিং ইমপ্রুভমেন্টের যাত্রা। ছোট ছোট পদক্ষেপই আপনাকে বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যাবে।
Comments 0
Join the discussion. Log in with your Praxis student account to comment or like.
Student login